নজরদারি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও শনাক্ত না হওয়ার এক অভিনব প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিল সোয়্যারিনগেন। ক্যানসাস সিটির সাইবার নিরাপত্তা সংগঠন ‘সেককেসি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ‘সিক্সসাইবার’ প্রতিষ্ঠানের এই গবেষক তৈরি করেছেন ‘নো রিকগনেশন’ নামের একটি প্রকল্প। এতে ব্যবহার করা হয়েছে রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কম্পিউটার নিজে থেকেই এমন প্যাটার্ন তৈরি করে, যা নজরদারি ক্যামেরার সফটওয়্যারকে বিভ্রান্ত করে দেয়। এই প্রযুক্তি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ করে না, বরং ক্যামেরার সফটওয়্যার স্তরে আঘাত হানেÑ ফলে মানুষ, বস্তু বা গাড়ির লাইসেন্স প্লেট শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় অ্যালগরিদম, আর কোনো স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তাও পাঠানো হয় না।

বাস্তব পরীক্ষায় সাফল্য : বছরজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ বার পরীক্ষা চালিয়ে প্যাটার্নগুলো তৈরি ও যাচাই করেছেন সোয়্যারিনগেন। এভাবে তৈরি প্যাটার্ন ফ্লক, অ্যাক্সন এবং ক্লিয়ারভিউ এআই-সহ অন্তত ১১টি ওপেন-সোর্স শনাক্তকরণ অ্যালগরিদমকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। গত ৬ আগস্ট ব্ল্যাক হ্যাট সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়ার পর, লাস ভেগাসের ডেফ কন সম্মেলনে প্রথমবারের মতো বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষাটি চালানো হয়। অটোমোটিভ মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ‘ডোনাট মিডিয়া’র সহায়তায় ২০০৯ সালের একটি টয়োটা ইয়ারিস গাড়িতে বিশেষ প্যাটার্নের কভার পরিয়ে সেটি একটি ফ্লক লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার সামনে দিয়ে চালানো হয়। সোয়্যারিনগেনের দাবি, পরীক্ষাটি কার্যকর হয়েছেÑ যদিও গাড়ির চাকা নকশার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছিল। এই পরীক্ষার ভিডিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দ্বিমত : সোয়্যারিনগেন এই প্রযুক্তিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন, যেখানে মানুষ স্বয়ংক্রিয় নজরদারি থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার সুযোগ পাবে। বর্তমানে ‘নো রিকগনেশন’ প্রকল্পের অধীনে প্যাটার্নযুক্ত টি-শার্ট ও হুডি বাজারে আনতে একটি ক্রাউডফান্ডিং প্রচারণা চলছে, ভবিষ্যতে গাড়ির জন্য প্যাটার্নযুক্ত স্কিনও বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবচেয়ে কার্যকর প্যাটার্নগুলো তিনি প্রকাশ্যে আনছেন না, যাতে ক্যামেরা নির্মাতারা দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে না পারে। একই সঙ্গে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, ডেফ কনের এই একক পরীক্ষার ফলাফল এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং বিভিন্ন দূরত্ব, আলো বা গতিতে এটি কতটা কার্যকর থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *