শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, ব্যবহারকারীর হয়ে বাস্তব কাজও করতে পারে, এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট নিয়ে এসেছে মেটা। মিউজ নামের এই এআই ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী একাধিক ধাপের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ৮ সেপ্টেম্বর উন্মোচনের পর এটি প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনায় এসেছে। সাধারণ চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো এর কাজ করার ধরন। ভ্রমণের পরিকল্পনা, দিনভিত্তিক সময়সূচি তৈরি, অনুস্মারক সেট করা কিংবা অনলাইন টিকিট ও রিচার্জের মতো কাজে এটি ব্যবহারকারীকে সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের সঙ্গেও এটি যুক্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে ই-মেইল লেখা, ভ্রমণ বা রেস্তোরাঁর তথ্য সাজিয়ে গুগল ডকস তৈরির মতো কাজ করা সম্ভব। মিউজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্লাউডভিত্তিক ভার্চুয়াল কম্পিউটার ব্যবহার করে ওয়েব ব্রাউজ করার সক্ষমতা। কোনো ওয়েবসাইটে পণ্য কেনার সময় নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হলে সেটি শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে কারণ জানাতেও পারে। পেমেন্টের ক্ষেত্রে স্ট্রাইপের ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য বিক্রেতার সঙ্গে দরদামের বার্তা তৈরিতেও এটি সহায়তা করতে পারে। তবে মিউজ এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয়। পরীক্ষায় পুরনো বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রেস্তোরাঁর তথ্য দেওয়ার মতো ভুলও পাওয়া গেছে। আবার অ্যামাজনের মতো কিছু ওয়েবসাইট এআই বটের স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ সীমিত করায় সেখানে মিউজের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। কিছু ক্ষেত্রে চেকআউটের সময় ব্যবহারকারীকে নিজেই ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়। মেটার দাবি, মিউজ নিরাপদ ক্লাউড পরিবেশে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা মূল ক্রেডিট কার্ড নম্বর দেখতে পারে না। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে মেটাকে ঘিরে আগের বিতর্কের কারণে এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে। মেটা এআইয়ের প্রতিযোগিতায় মিউজকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তব কাজ করার এই সক্ষমতা ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত এআই সহকারীর ব্যবহারের ধরনও বদলে দিতে পারে। Post navigation গ্রাহক সেবায় এবার মুখভঙ্গিসহ কথা বলবে গুগলের এআই অ্যাভাটার