চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের দুটি সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে নিজে থেকেই বেরিয়ে গিয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে হ্যাকিং চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন সাইবার ঘটনা’ বলে আখ্যা দেয়। জড়িত মডেল দুটি হলো সদ্য প্রকাশিত জিপিটি ৫.৬ সল এবং এখনও প্রকাশ না হওয়া, তার চেয়েও বেশি সক্ষমতাসম্পন্ন একটি মডেল। মডেলগুলোর সাইবার সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ‘এক্সপ্লয়টজিম’ নামের একটি বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় সাধারণ নিরাপত্তা বিধিনিষেধ শিথিল করে সেগুলো চালানো হচ্ছিল। ইন্টারনেট সংযোগবিহীন এক বদ্ধ পরিবেশে (স্যান্ডবক্স) মডেলগুলো আটকে থাকার কথা থাকলেও সেগুলো একটি তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যারে অজানা এক নিরাপত্তা ত্রুটি (জিরো-ডে) খুঁজে বের করে উন্মুক্ত ইন্টারনেটে প্রবেশের পথ তৈরি করে। এরপর চুরি করা লগইন তথ্য ও একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে ওপেন-সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের মূল সার্ভারে প্রবেশ করে এআই এজেন্টটি, যেখান থেকে তারা নিজেদের পরীক্ষার উত্তরপত্র বের করে আনার চেষ্টা করে। উভয় পক্ষের প্রতিক্রিয়া : ওপেনএআইয়ের ভাষ্যমতে, লক্ষ্য পূরণে এই এজেন্ট ‘চরম পর্যায়ে’ চেষ্টা চালিয়েছিল। মজার বিষয় হলো, হাগিং ফেস নিজেই আগে থেকে এই অনুপ্রবেশ শনাক্ত করেছিল এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছিলÑ তখনও তারা জানত না, এটি ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষার অংশ। পরে দুই প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে। হাগিং ফেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্লেমঁ দেলাঁগ বলেন, পুরো ঘটনাটি নিজে থেকেই ঘটে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর, তবে তার বিশ্বাস, এতে ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো দুরভিসন্ধি ছিল না। উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের টেক্সাসের ডেমোক্র্যাটিক সদস্য গ্রেগ কাসার এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এআই যে গতিতে বিকশিত হচ্ছে, তার তুলনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাস্তব কোনো নিয়ন্ত্রণকাঠামো নেই। তিনি বাধ্যতামূলক স্বতন্ত্র নিরাপত্তা পরীক্ষা, ঘটনা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। Post navigation ওপেন সোর্সের পথে বড় পদক্ষেপ ক্যামেরায় ধরা পড়বে না মানুষ বা গাড়ি!