বর্তমানে বাজারে থাকা বেশির ভাগ স্মার্টওয়াচই পানিনিরোধক হলেও কোনো ডিভাইসই পুরোপুরি ‘ওয়াটারপ্রুফ’ নয়। আইপি৬৮ বা আইপিএক্স৮ রেটিংয়ের স্মার্টওয়াচ পরে সাঁতার কাটা গেলেও, পানি থেকে ওঠার পর ঘড়ির ভেতরে আটকে থাকা আর্দ্রতা দীর্ঘমেয়াদে যন্ত্রাংশের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানেই অ্যাপল ওয়াচে রয়েছে ‘ওয়াটার লক’ নামে একটি বিশেষ ফিচার, যা শুধু স্ক্রিন লকই করে না, বরং ঘড়ির ভেতরে ঢুকে পড়া পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বের করতেও সাহায্য করে।

কীভাবে কাজ করে ‘ওয়াটার লক’?

অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ২ থেকে শুরু করে পরবর্তী সব মডেলেই ‘ওয়াটার লক’ ফিচারটি রয়েছে। এটি চালু থাকলে পানির নিচে ঘড়ির টাচস্ক্রিন সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ফলে পানির চাপ বা পানির স্পর্শে স্ক্রিনে ভুল কমান্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

তবে ফিচারটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয় পানি থেকে ওঠার পর। ওয়াটার লক বন্ধ করতে ঘড়ির ডিজিটাল ক্রাউন কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরলে অ্যাপল ওয়াচ স্পিকারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ও কম্পন সৃষ্টি করে। এই কম্পনের ফলে স্পিকারের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে জমে থাকা পানি বাইরে বেরিয়ে আসে এবং ঘড়িটি দ্রুত শুকিয়ে যায়।

এ সময় আশির দশকের ভিডিও গেমের মতো একটি অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়, যা আসলে পানি বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ।

ম্যানুয়ালি চালু করার উপায়

ব্যবহারকারী চাইলে নিজেও ‘ওয়াটার লক’ চালু করতে পারেন। এজন্য অ্যাপল ওয়াচের সাইড বাটন চাপ দিয়ে কন্ট্রোল সেন্টার খুলে পানির ফোঁটা আইকনে ট্যাপ করতে হবে।

পানি থেকে ওঠার পর ডিজিটাল ক্রাউন কয়েক সেকেন্ড চেপে রাখলেই পানি বের করার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হবে।

অ্যাপল ইচ্ছাকৃতভাবেই এই প্রক্রিয়া চালু বা বন্ধ করার জন্য কয়েক সেকেন্ড বোতাম চেপে ধরে রাখার ব্যবস্থা রেখেছে, যাতে ভুলবশত এটি সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় না হয়ে যায়।

কখন ব্যবহার করবেন?

সাঁতার, সার্ফিং বা অন্যান্য জলক্রীড়ার সময় ‘ওয়াটার লক’ ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। তবে শুধু পানিতে নামলেই নয়, ঘড়ি ভিজে যেতে পারে এমন যেকোনো পরিস্থিতিতেই এটি ম্যানুয়ালি চালু করা ভালো।

বিশেষ করে গোসলের সময়, থালাবাসন ধোয়ার সময়, বৃ্ষ্টিতে হাঁটা বা দৌড়ানোর সময়, ওয়াটার স্পোর্টস বা সাঁতার কাটার সময় এই ফিচার ব্যবহার করলে ঘড়ির ভেতরে পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে যায়।

গভীর পানির জন্য আলাদা মডেল

সাধারণ অ্যাপল ওয়াচ গভীর পানির চাপ সহ্য করার জন্য তৈরি নয়। যারা স্কুবা ডাইভিং বা গভীর সমুদ্রে ডুব দেন, তাদের জন্য অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা, আল্ট্রা ২ এবং আল্ট্রা ৩ মডেল তৈরি করেছে। এসব মডেল উচ্চ পানির চাপেও নিরাপদে কাজ করতে পারে এবং এগুলোতেও ‘ওয়াটার লক’ ফিচার সমানভাবে কার্যকর।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারে সহায়ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো স্মার্টওয়াচের পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। বিশেষ করে ক্লোরিনযুক্ত সুইমিং পুলের পানি ডিভাইসের সিলিংয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তাই ঘড়ির ভেতরে পানি ঢোকা যতটা সম্ভব কমানো এবং ঢুকে গেলে দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য ‘ওয়াটার লক’ ব্যবহার করা স্মার্টওয়াচের আয়ু বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *