এবার কথা বলার পাশাপাশি মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে সক্ষম রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল অ্যাভাটার এনেছে গুগল। গ্রাহক সেবা ও বিক্রয় সহায়তার মতো কাজে এসব অ্যাভাটার ব্যবহার করা যাবে। ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের পর্দায় মানুষের বদলে এ ধরনের এআই অ্যাভাটারের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের অভিজ্ঞতা হতে পারে ব্যবহারকারীদের। গত সপ্তাহে গুগল ‘জেমিনাই ৩.৮ লাইভ’ এবং ‘লাইভ এক্সটেন্ডেড থিংকিং’ মডেল উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে উন্নত লাইভ ডায়লগ মডেল হিসেবে তুলে ধরেছে। ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহার উপযোগী ভয়েস এজেন্ট তৈরির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহ করাই এসব মডেলের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছিল গুগল। এবার সেই প্রযুক্তির সঙ্গে ভিডিও যুক্ত করে ‘জেমিনাই ৩.৮ লাইভ উইথ লাইভ অ্যাভাটার’ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে লাইভ ডায়লগের সঙ্গে প্রায় রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল উপস্থিতি যুক্ত হয়েছে। গুগলের ভাষায়, প্রযুক্তিটি এমন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে, যেখানে একটি গতিশীল ভিজ্যুয়াল চরিত্র ব্যবহারকারীর কথা শুনবে, দেখবে এবং জবাব দেবে। গুগলের প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে বাস্তবধর্মী ও কার্টুনধর্মী দুই ধরনের অ্যাভাটারই দেখানো হয়েছে। এসব অ্যাভাটার কথার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠোঁট নাড়াতে পারে, স্বাভাবিক মুখভঙ্গি দেখাতে পারে এবং কথোপকথনে সাবলীলভাবে একে অপরের পালা বুঝে সাড়া দিতে পারে। গুগলের দাবি, এর ফলে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আরও স্বাভাবিক ও বহুমাত্রিক কথোপকথন সম্ভব হবে। অ্যাভাটার শুধু কথা শুনে ও জবাব দিয়েই থেমে থাকবে না, মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে। কথোপকথনের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ লাইভ অ্যাভাটারগুলো জেমিনাইয়ের উন্নত যুক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন চলার সময়ও পেছনে বিভিন্ন টুল ব্যবহারের নির্দেশ দিতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে অ্যাভাটারগুলো। গ্রাহক সেবা, বিক্রয় সহায়তা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রে এ সক্ষমতা বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি অ্যাভাটার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার প্রক্রিয়াও চালিয়ে যেতে পারবে। গুগল জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাভাটারের একটি লাইব্রেরি থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে উচ্চমানের রেফারেন্স ছবি ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাভাটার তৈরি করতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের ধরন, চেহারা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের পরিচয় বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে এসব সুবিধা আপাতত শুধু এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের অনুমোদিত গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট যেন সহজে শনাক্ত করা যায় এবং কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা রেখেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, লাইভ অ্যাভাটারগুলো কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় তৈরি করা হয়েছে এবং প্রতিটি অ্যাভাটারে গুগলের সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক থাকবে। প্রাথমিকভাবে জেমিনাই এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য তৈরি হলেও ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে গ্রাহক সেবা কিংবা বিক্রয় সহায়তায় এ ধরনের অ্যাভাটারের ব্যবহার দেখতে পারেন। তবে এআই দিয়ে তৈরি অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে অনীহা তৈরি হয়েছে, তাতে গুগলের নতুন অ্যাভাটার প্রযুক্তি কতটা ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। Post navigation এআইয়ের হাতেই কি শেষ হবে মানবজাতি, কীভাবে ঘটতে পারে সেই বিপর্যয়? মেটার নতুন এআই মিউজ যেভাবে কাজ করে