ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে কেউ বাদ যাবেন না, কাদেরকে ফখরুল - Amader Bangladesh

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা নিজের উপার্জন ও পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করেও রাজনীতি করি। প্লিজ, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ করে সামাল দিতে পারবেন না। তখন কেউ বাদ যাবেন না। কার কোথায় কত বাড়ি ঘর আছে, কত টাকা সরিয়েছেন, কীভাবে সরিয়েছেন সব দেশের মানুষ জানে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। এর আগে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক যৌথ সভা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল কতগুলো আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। সমস্ত রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারের বাইরে গিয়ে কথাগুলো বলেছেন। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। সেই আক্রমণে তিনি বলেছেন, আমরা নাকি দুবাই থেকে টাকা পাই। আমি নাকি টাকার ওপর শুয়ে আছি। আমি ওবায়দুল কাদেরকে এটুকু বলতে চাই, বেশি ঘাটাবেন না। ঘাটাতে গেলে কেঁচো বেরিয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা কী করেন, না করেন গোটা দেশের মানুষ জানে। কীভাবে অর্থ উপার্জন করেন সবাই জানে। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করি। আমরা কারও পয়সায় রাজনীতি করি না। আমাদের দলের প্রত্যেক সদস্য চাঁদা দিয়ে নিজেরা সব কর্মসূচি ও সমাবেশগুলো সফল করছে। এটা আমাদের বৈশিষ্ট্য। ’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, কারও কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে রাজনীতি করি না। আপনারা কী করেন ‘৭১ সালের পর থেকে সবাই জানে। হঠাৎ ফুলে কলাগাছ হয়ে যাচ্ছেন। কে কোথায় হাজার হাজার কোটি টাকার বাড়ি করছেন, কে কোথায় ব্যাংকের লোন নিয়ে পাচার করে দিচ্ছেন, কানাডায় বেগম পাড়া, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, সিঙ্গাপুরের সব খবর মানুষ জানে।’

‘কে কয়টা ব্যাংকের মালিক হলেন, আমেরিকায় কতগুলো বাড়ি করেছেন। ৪৩ কোটি টাকা দিয়ে সচিবদের বাড়ি করছেন। এগুলো কার টাকা এই দেশের মানুষের টাকা? এদেশের মানুষের টাকা’, যোগ করেন ফখরুল।

এ সময় গতকাল শনিবার ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে লোকজন নিয়ে আসলেন, বিশাল নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে, সরকারি জায়গার মধ্যে চেয়ার পর্যন্ত পূরণ করতে পারেননি। তাহলে কত লোক হয়েছে বোঝেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন,শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর নেওয়াজ আলী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবদুস সাত্তার পাটোয়োরি, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান, মতস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, লিয়াকত আলী, ছাত্র দলের রাকিবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।